নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে অগ্রাধিকার দেয়ার কৌশল থেকে সরে এসে নতুন করে জীবাশ্ম জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে ইউরোপ। এ অঞ্চলের দেশগুলো আবারো নিজস্ব জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধানে ফিরতে শুরু করেছে। ইউরোপের অন্যতম বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান এনারজিয়ানের প্রধান নির্বাহী ম্যাথিওস রিগাস ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ম্যাথিওস রিগাস বলেন, ‘আগে গ্রিসের নজর ছিল শুধু পরিবেশবান্ধব জ্বালানির দিকেই। দেশটি কয়লাভিত্তিক (লিগনাইট) বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করেছিল। এমনকি নতুন করে শুধু নবায়নযোগ্য প্রকল্পেই বিনিয়োগ শুরু করেছিল। কিন্তু বর্তমানে এ নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন সরকার ও কোম্পানিগুলো জ্বালানি তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান নিয়েও ভাবছে। যেমন পশ্চিম গ্রিসে এক্সনের সঙ্গে কূপ খননের পরিকল্পনা। যদি সেখানে গ্যাস বা তেল পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে গ্রিস অভ্যন্তরীণ জ্বালানির চাহিদার বড় অংশ নিজেই মেটাতে পারবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইতালিতে আগে নতুন জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান বন্ধ ছিল। কারণ এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা বজায় ছিল। কিন্তু সে আইন বর্তমানে বাতিল করে দেয়া হয়েছে। এতে নতুন করে জ্বালানি অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
সাক্ষাৎকারে ম্যাথিওস রিগাসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এখনো উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ চালিয়ে গেলেও গত এক বছরে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তরের গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে হাইড্রোজেনের মতো বিকল্প জ্বালানি এখনো তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। ফলে জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলো বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি আরো বেশি মজুদ নিশ্চিত করতে তৎপর হচ্ছে কোম্পানিগুলো।
তবে রিগাস বলেন, ‘ভূমধ্যসাগরীয় দেশের বাজারগুলোয় নীতি পরিবর্তনের প্রাথমিক ইঙ্গিত মিললেও ইউরোপকে সত্যিকার অর্থে জ্বালানি খাতে স্বনির্ভর করতে হলে আরো বিস্তৃত পরিবর্তন প্রয়োজন হবে।’
দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপীয় গ্যাস প্রকল্পগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার থেকে আসা সরবরাহের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। কারণে দেশগুলো এখন ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) গুরুত্বপূর্ণ উৎস। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান হলে ভবিষ্যতে রাশিয়াও আবার সম্ভাব্য সরবরাহকারী হিসেবে ফিরে আসতে পারে।
রিগাস বলেন, ‘অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো গ্রাহকদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা। কারণ প্রতিষ্ঠানগুলোও দামের একটি নির্দিষ্ট স্থিতিশীলতা চায়।’